৪ এপ্রিল, শুক্রবার ২০২৫ ইং তারিখে ধানীখোলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের উদ্যোগে এক নান্দনিক ও প্রাণবন্ত ঈদ পুনর্মিলনী পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ত্রিশালের ধানীখোলা ইউনিয়নের প্রানকেন্দ্রে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল একদিক দিয়ে পুনর্মিলনী, অন্যদিকে ছিল ছাত্র রাজনীতিকে কেন্দ্র করে এক গঠনমূলক আলোচনার বিশদ আয়োজন।
এই আয়োজনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের গর্ব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (কেন্দ্রীয় সংসদ)-এর সহ-সভাপতি ওয়ালিউজ্জামান সোহেল। তিনি তার বক্তব্যে ছাত্ররাজনীতির অতীত গৌরবগাথা তুলে ধরেন এবং বিএনপি’র ৩১ দফা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রাসঙ্গিকতা ও ছাত্রদলের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রসমাজ সবসময়ই রাজনীতির মুখ্য চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমান সময়ে আমাদের ছাত্রদের উচিত — জাতীয়তাবাদী আদর্শকে ধারণ করে স্বচ্ছতা, সাহসিকতা ও সংগঠনের ভিত্তিকে আরও দৃঢ় করা।” তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এখন সময় এসেছে রাজপথে সক্রিয় থেকে জনগণের স্বার্থে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার।”
পথসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধানীখোলা ইউনিয়ন ছাত্রদল, ত্রিশাল উপজেলা শাখার সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক, আরিফুল ইসলাম আরাফাত। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “আজকের এই পথসভা প্রমাণ করে ছাত্রদল এখনো মাটির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে এগিয়ে যেতে চায়। ছাত্র রাজনীতি শুধু ক্যাম্পাস বা শহরকেন্দ্রিক নয়, এটা এখন গ্রামের প্রতিটি ছাত্রের চেতনার অংশ হয়ে উঠেছে।”
তিনি আরও বলেন, “ধানীখোলার মতো একটি ইউনিয়নে শতাধিক ছাত্রনেতা-কর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, ছাত্রদল এখনও তার শক্তি ও বিশ্বাস ধরে রেখেছে।
অনুষ্ঠানটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন ধানীখোলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মিলন রহমান এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা গোটা আয়োজনকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করেন। উপস্থিত নেতাকর্মীরা এই আয়োজনের মাধ্যমে নতুনভাবে উদ্দীপনা পেয়েছেন বলে জানান।
পথসভায় এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি ও ছাত্রসমাজের নানা সমস্যার কথা উঠে আসে। বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা, বেকারত্ব, ডিজিটাল অবকাঠামোর অভাব এবং রাজনৈতিক চেতনার সংকট — এসব বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ বলেন, “ছাত্র রাজনীতি কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ নয়, এটি হচ্ছে জনগণের সমস্যা সমাধানের বাস্তব প্ল্যাটফর্ম।”
এছাড়া বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা বৈষম্যবিরোধী কর্মসূচির বিভিন্ন দিকও আলোচনা করা হয়। উপস্থিত বক্তারা বলেন, “এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি সেক্টরে সমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।” বক্তৃতায় একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ছাত্রদলের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
আয়োজনস্থল ছিল উৎসবমুখর পরিবেশে ভরপুর। স্থানীয় ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়। গ্রামের নানা বয়সী মানুষ, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরাও পথসভা ঘিরে কৌতূহলী হয়ে উঠেছিলেন। আয়োজন শেষে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে উপস্থিত সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং ছোট পরিসরে মিলন ভোজেরও ব্যবস্থা ছিল।
এই আয়োজনে ছাত্রদলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাও সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয়। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত শিক্ষামূলক সভা, রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও জনসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা আসে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে রাজনীতির ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কার্যক্রম বৃদ্ধির কথাও জানানো হয়।
ধানীখোলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের এই ঈদ পুনর্মিলনী পথসভা শুধু একটি মিলনমেলা ছিল না, বরং এটি ছিল ছাত্রসমাজের মধ্যে নতুন করে রাজনীতির চেতনা জাগ্রত করার এক অনন্য প্রয়াস। গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে এমন রাজনৈতিক ও সামাজিক আয়োজন তরুণদের মাঝে নেতৃত্ব বিকাশের অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেই প্রত্যাশা করেন আয়োজকেরা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তার ঐতিহ্যবাহী পথচলা ধরে রেখে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে এভাবেই ইউনিয়ন থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সচেতনতা ও সংগঠন বিস্তারের কর্মসূচি চালিয়ে যাবে — এমনটিই ছিল এই পথসভার সারকথা।