থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরা হয় এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি এক ব্রিফিংয়ে জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি ব্যবস্থা বজায় রাখার প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা উভয় দেশের জন্য বাস্তবসম্মত সুফল বয়ে এনেছে এবং জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকেও ভারত গুরুত্ব দিচ্ছে।
বৈঠকে সীমান্ত ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র সচিব জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে উসকানিমূলক বক্তব্য ও উত্তেজনাকর ভাষা পরিহার করার আহ্বান জানান তিনি, যা সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও শান্তিপূর্ণ রাখতে সহায়তা করবে।
এছাড়া, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার যেকোনো ঘটনার যথাযথ তদন্ত করবে।
এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, দুই নেতার মধ্যে ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় সীমান্ত হত্যা, তিস্তা চুক্তিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পেয়েছে।
এছাড়া, বৈঠকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। ভারতের মাটিতে বসে তিনি যে বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।