ভূমধ্যসাগরে বৃহস্পতিবার দুটি পৃথক নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৬ জন অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে গ্রিসের উপকূলে সাতজন এবং তুরস্কের উপকূলে আরও নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
গ্রিসের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, লেসবস দ্বীপের কাছে বৃহস্পতিবার একটি ফোলানো নৌকা ডুবে গেলে দুই শিশুসহ সাতজনের প্রাণহানি ঘটে। এ ঘটনায় ২৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে উপকূলরক্ষী বাহিনীর টহল নৌকাগুলো আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে বলে জানিয়েছে এক মুখপাত্র।
প্রায় ৩০ জন অভিবাসী নিয়ে নৌকাটি তুরস্কের উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। ভালো আবহাওয়া থাকার পরও এটি ডুবে যায়। নৌকাটিতে পানি ঢুকে পড়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মৃতদের মধ্যে চারজন নারী, এক কিশোর ও এক কিশোরী রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বাকি তিনজনের পরিচয় ও জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
একই দিনে তুরস্কের পশ্চিম উপকূলে আয়ভাজিক জেলার কাছে আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে, যেখানে নয়জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় গভর্নরের কার্যালয় ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় ২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
গভর্নরের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উদ্ধার অভিযানে নয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, এবং নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তবে নিহতদের জাতীয়তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ভূমধ্যসাগরের এই ঝুঁকিপূর্ণ রুটে প্রায়শই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এই পথে প্রায় ২,৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
গত মাসে গ্রিক মেরিটাইম পুলিশ জানিয়েছিল, এক দালালের ফেলে যাওয়ার পর এক অভিবাসী মারা যান এবং ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে প্রায় ৯,০০০ অভিবাসী সমুদ্রপথে গ্রিসে প্রবেশ করেছেন, যেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫৪,০০০।
গ্রিসের রক্ষণশীল সরকার অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে।
বুধবার পার্লামেন্টে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস বলেন, “যদি কেউ অবৈধভাবে গ্রিসে প্রবেশ করতে চায় এবং আশ্রয়ের যোগ্য না হয়, তবে আমরা তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য যা যা করা সম্ভব, তাই করব।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশে কে প্রবেশ করবে তা দালাল ও তাদের সঙ্গে কাজ করা এনজিওরা নির্ধারণ করবে না।”