সরকারি-বেসরকারি মিলে দেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা প্রায় সাড়ে ১১ হাজার। যার অর্ধেকের বেশি জেলা-উপজেলা শহরে অবস্থিত। এবার ঈদের ছুটিতে টানা ৯ দিন বন্ধ এসব শাখার কার্যক্রম। এর বাইরে সারাদেশে এটিএম বুথ আছে প্রায় ১৩ হাজার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় ঈদের ছুটিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই ব্যাংকের শাখা ও এটিএম বুথে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তাই ঈদের ছুটিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রতিটি শাখা ও এটিএম বুথের নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে প্রধান কার্যালয় থেকে। বাড়ানো হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ শাখার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। সাইবার নিরাপত্তাও নিশ্চিত করছে ব্যাংকের আইটি বিভাগ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, নিরাপত্তার ব্যাপারে একচুলও ছাড় নয়। সবসময় সিকিউরিটি গার্ড থাকবে। সিসি ক্যামেরা তো সবসময় আছে। নিরাপত্তাটা যাতে নিশ্চিত করে ব্যাংকগুলো এটিএম বুথগুলো পরিচালনা করে। ব্রাঞ্চগুলোর ক্ষেত্রেও… সকল ব্রাঞ্চে সিকিউরিটি গার্ড থাকে, তারা থাকবে। ব্রাঞ্চগুলোর নিকটস্থ থানায়ও তথ্য দেয়া আছে, তাদের ব্রাঞ্চে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে।
শাখার নিরাপত্তায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়। ঝুঁকিপূর্ণ শাখার নিরাপত্তা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কাজ করছে তদারকি টিম।
এ নিয়ে যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা ইলিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঢাকার বড় বড় শাখাগুলোতে ভল্টে এই সময় বেশি টাকা থাকে। এই সময় আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি এবং শিফটিং ডিউটির মাধ্যমে প্রত্যেকটা ব্যাংকেই এটা আছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এটাকে আমরা গত বছর বা এর আগের বছরগুলোতে যেভাবে করেছি এবার একটু বেশি করে এটা করতে হবে। কারণ সামগ্রিক দেশের অবস্থা, ইতোমধ্যে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন বলেন, দ্বিগুণ নিরাপত্তা দিয়েছি, আমরা কিছু শাখাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছি। ঝুঁকিপূর্ণ শাখা সেগুলোকে বলা হয়, যেগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকে। যেখানে ধরেন অন্য ব্যাংকের শাখা নেই, শুধু আমার ব্যাংকের শাখা আছে। আমাদের প্রধান কার্যালয় যেহেতু বন্ধ থাকবে, আমাদের প্রধান কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সবাইকে ওখানে পাঠিয়েছি এবং তাদেরকে আমরা ডাবল চার্জ দিচ্ছি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে, শাখার নিকটবর্তী থানার সাথেও যোগাযোগ রাখছেন ব্যাংকাররা।