মিয়ানমারের সাগাইং শহরে ভয়াবহ ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর পুরো এলাকা মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। বাতাসে ভাসছে পচা মরদেহের গন্ধ, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে অসংখ্য প্রাণ।
স্থানীয় বাসিন্দা থার ন্গে জানান, ‘প্রতি ঝাপটায় মরদেহের গন্ধ নাকে আসছে।’ শুক্রবারের (২৮ মার্চ) এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সাগাইং, যেখানে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাগাইংয়ের কাছে ইরাবতি নদীর ওপর ইয়াদানাবন সেতু ধসে পড়ায় মান্দালয় থেকে উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। থার ন্গে জানান, মাত্র কিছুক্ষণ আগেই উদ্ধারকর্মীরা এসেছেন।
এখন পর্যন্ত ১,৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, আহত প্রায় ৩,৪০০ জন। ৯০ বছর পুরোনো অ্যাভা সেতুসহ বহু স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাগাইং শহরের বহু মঠ ও নানাবাস ধসে পড়েছে, যেখানে বহু সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনী আটকা পড়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা জানান, জীবিত উদ্ধারের প্রচেষ্টা কমে গেছে, এখন প্রধান লক্ষ্য মরদেহ বের করা।
ভূমিকম্পে রাস্তা ও সেতু ধসে পড়ায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন, মোবাইল নেটওয়ার্কও সীমিত। প্রচণ্ড গরম (৩৯-৪০°C) মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
উদ্ধারকর্মী হ্তেত ওয়াই জানান, মরদেহ বহনের ব্যাগও পর্যাপ্ত নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম উদ্ধার অভিযানেই লাশ পেতে হয়েছে। আরও অনেক লাশ পাওয়ার আশঙ্কা করছি, তবে যত প্রাণ সম্ভব বাঁচানোর চেষ্টা করছি।’
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা ৪০°C ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা উদ্ধারকর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভয়াবহ বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া মিয়ানমারের জন্য সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হবে।