রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের কৌশল বদল, পুতিনের প্রতি ক্ষুব্ধ
তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় সক্রিয় হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি সংঘাতের অবসানে উদ্যোগ নিচ্ছেন। তবে আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চালালেও পুতিন থেকে ইতিবাচক কোনো সাড়া পাননি ট্রাম্প। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ্যে তার ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, “আমি ইউক্রেনের রক্তপাত বন্ধ করতে চাই। কিন্তু রাশিয়া যদি সমঝোতায় না আসে এবং আমি যদি মনে করি এর জন্য তারা দায়ী, তাহলে রাশিয়ার তেলের ওপর ৫০ শতাংশ সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করব।”
এছাড়া, ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে, পুতিন ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। এই বিষয়টি তাকে ভীষণ ক্ষুব্ধ করেছে।
“আমি রেগে গিয়েছিলাম যখন পুতিন জেলেনস্কির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। এটা সঠিক পথে যাচ্ছে না। নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি কঠিন হয়ে পড়ে,” মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য তার পূর্ববর্তী নীতির চেয়ে বেশ কড়া। আগে রাশিয়ার প্রতি তিনি তুলনামূলক নরম অবস্থান নিলেও এবারই প্রথমবারের মতো তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপের হুমকি দিলেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “যদি যুদ্ধবিরতি না হয়, তাহলে আমি রাশিয়ার তেলের ওপর সেকেন্ডারি শুল্ক বসাব। এটি কঠিন সিদ্ধান্ত হলেও প্রয়োজনে তা কার্যকর করব।”
এই হুঁশিয়ারির ফলে কূটনৈতিক চাপ এখন রাশিয়ার ওপর বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকে ধারণা করছেন, ট্রাম্প হয়তো গোপনে পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।
গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রতি কিছু ছাড় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং জেলেনস্কির নেতৃত্বের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। একই সময়ে, তিনি পুতিনকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের কৌশলে পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। এবার তিনি রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, “ক্রেমলিন জানে যে আমি ক্ষুব্ধ। তবে পুতিনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল। যদি তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে আমার রাগ দ্রুতই কমে যাবে।”
এর মাধ্যমে ইঙ্গিত মিলছে যে, রাশিয়া যদি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়, তাহলে সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে। তবে মস্কো এই নতুন অবস্থান কীভাবে নেবে, তা সময়ই বলে দেবে।