কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিএনপির সাংগঠনিক সভাকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সোমবার (২৪ মার্চ) দুপুরে চৌদ্দগ্রাম বাজারের একটি মিলনায়তনে এ সংঘর্ষ হয়। ঘটনার সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল কিছুক্ষণ বন্ধ ছিল।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন- পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী জোবায়ের, মুন্সীরহাট ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সবুজ, চিওড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উজিরপুরের আইয়ুব, শ্রীপুর ইউনিয়নের বাইকগ্রামের সাইফুল, ছাত্রদল কর্মী ইউসুফ, জনি, যুবদল কর্মী ইকবাল, কালিকাপুর ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি মো. জাকির হোসেন এবং যুবদল কর্মী মহিনসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা সাবেক এমপি মুজিবুল হকের ব্যক্তিগত কার্যালয়টি দখলে নিয়ে দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। তবে উপজেলা বিএনপিতে দুটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। সোমবার ওই কার্যালয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সভা চলাকালে কামরুল হুদা ও সাজেদুর রহমান মোল্লা হিরণ-জুয়েল পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ বাধে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল হোসেন জুয়েল অভিযোগ করে বলেন, “সাংগঠনিক সভায় কামরুল হুদা পক্ষের বাইরে অন্য কেউ যেন প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য তারা গেট পাহারা দেয়। আমরা নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।”
অন্যদিকে, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সাজেদুর রহমান মোল্লা হিরণ জানান, “আমি সভাস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করলে কামরুল হুদা পক্ষের লোকজন আমাকে লাঞ্ছিত করে এবং আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। বাধ্য হয়ে আমি স্থানীয় একটি মার্কেটের সামনে আশ্রয় নিই। পরে সেখানেও হামলার শিকার হই।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কামরুল হুদা বলেন, “আমাদের সভা সফলভাবে শেষ হয়েছে। মিলনায়তনের বাইরে হিরণ মোল্লার লোকজন ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে এসে সংঘর্ষে জড়ায়।”
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মো. হিলাল উদ্দিন জানান, বিএনপির সভাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।