রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিল নগরীর তালাইমাড়ি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে রাজশাহীর বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— ‘আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে’, ‘বিচার চাই, আওয়ামী লীগের বিচার চাই’, ‘শেইম শেইম, ওয়াকার’ ইত্যাদি।
শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ যে গণহত্যা চালিয়েছে, তার রেশ এখনো কাটেনি। আহতরা এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই দেশে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করা হলে তা শহিদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি হবে।’
রাবির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ইন্টারিম সরকার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। জনগণ ভেবেছিল, অধিকার ফিরে পাবে এবং আওয়ামী লীগের বিচার হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি, যা শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বেইমানি।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রথম এ দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই ভারতের দালালি করেছে এবং দেশের মানুষের কোনো উন্নতি করেনি। শুধু জুলাই হত্যাকাণ্ড নয়, আওয়ামী লীগ অতীতেও বহু হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এসব ঘটনার বিচার করতে হবে। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।’
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) রাত আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে বিক্ষোভ করেন এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।