জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে সমানসংখ্যক নেতার অংশগ্রহণে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তুতি চলছে। তবে কমিটির মোট সদস্যসংখ্যা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই নতুন দলে জাতীয় নাগরিক কমিটির সাবেক শিবির সংশ্লিষ্ট নেতারা থাকছেন না।
আগামী শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। ওই দিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে না, তবে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে (সম্ভাব্য ছয় বা ততোধিক) নেতাদের নাম প্রকাশ করা হবে। অন্যান্য পদে নিয়োগ পরবর্তীতে জানানো হবে।
নতুন দলের সম্ভাব্য নেতৃত্ব:
নতুন দল গঠনের প্রক্রিয়ায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি আলী আহসান জোনায়েদ ছিলেন আলোচনায়। তবে তিনি ফেসবুকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন দলে তিনি থাকছেন না।
তার ঘোষণার পর, আরেক সাবেক শিবির নেতা রাফে সালমান রিফাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনিও নতুন দলে থাকছেন না। একইভাবে, জাতীয় নাগরিক কমিটির সহমুখপাত্র আরেফীন মোহাম্মদ হিযবুল্লাহ দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন এবং কমিটি থেকেও পদত্যাগ করেছেন।
তবে, এক সময় শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এমন কিছু নেতার দলটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নাগরিক কমিটির একজন দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন।
নতুন দলের সম্ভাব্য জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদে নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন এর নাম শোনা যাচ্ছে।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারেন:
নতুন দলের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন।
নতুন দলের গঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। তবে দল গঠনের পরও এই কমিটি স্বতন্ত্রভাবে থাকবে এবং আলাদা কার্যালয় থেকে পরিচালিত হবে।
গতকাল বাংলামোটরের কার্যালয়ে নাগরিক কমিটির এক বৈঠকে ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তগুলো হলো—
নাগরিক কমিটি থেকে নতুন দলের জন্য ১২০ জনের একটি সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করা হয়েছে। নতুন দলে যোগদান না করা সদস্যদের নিয়ে কমিটি পুনর্গঠিত হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
নতুন রাজনৈতিক দলের গঠনে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তরুণ নেতৃত্ব সমানভাবে অংশ নিচ্ছে। তবে বিতর্ক এড়াতে সাবেক শিবির সংশ্লিষ্ট নেতারা এতে যুক্ত হচ্ছেন না। নতুন দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং পরবর্তী কার্যক্রম রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
**নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ আগামীকাল**
জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ে গঠিত নতুন এক রাজনৈতিক দল আগামীকাল শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। এই দুই সংগঠন থেকে সমানসংখ্যক নেতা নিয়ে নতুন দল গঠন করা হলেও এখনো চূড়ান্ত হয়নি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির আকার। তবে জানা গেছে, জাতীয় নাগরিক কমিটির সাবেক আলোচিত শিবির সংশ্লিষ্ট নেতারা নতুন দলে থাকছেন না।
নতুন দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিকেলে দেওয়া হবে। যদিও পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনই প্রকাশ করা হবে না, তবে শীর্ষস্থানীয় ছয় বা তার বেশি গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতৃত্বদানের জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করা হবে। অন্যান্য পদে নেতাদের নাম পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে বলে জাতীয় নাগরিক কমিটির এক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন।
### **নেতৃত্বে কারা থাকছেন?**
এরই মধ্যে আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব হিসেবে আখতার হোসেনের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। এছাড়া, মুখ্য সংগঠক হিসেবে সারজিস আলম এবং মুখপাত্র হিসেবে হাসনাত আবদুল্লাহর নামও অনেকটাই নিশ্চিত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রাথমিক আলোচনায় নতুন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি আলী আহসান জোনায়েদের নাম শোনা গেলেও তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছেন, নতুন দলে তিনি থাকছেন না। তার এই সিদ্ধান্তের পর, ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আরেক সাবেক সভাপতি রাফে সালমান রিফাতও একই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এছাড়া, শিবিরের আরেক সাবেক নেতা আরেফীন মোহাম্মদ হিযবুল্লাহও নতুন দলে যোগ দিচ্ছেন না বলে জানা গেছে। তিনি ইতোমধ্যে জাতীয় নাগরিক কমিটির সহমুখপাত্র পদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন। তবে শিবিরের প্রাক্তন কয়েকজন নেতা নতুন দলে যুক্ত থাকবেন বলে নাগরিক কমিটির এক নেতা জানিয়েছেন।
নতুন রাজনৈতিক দলে সম্ভাব্য জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিনের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া, সারোয়ার তুষার, তাসনিম জারা, আরিফুল ইসলাম আদীব এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আবদুল হান্নান মাসউদসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারেন।
### **অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ও নাগরিক কমিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা**
নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণার জন্য রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) চিঠি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। এই উপলক্ষে বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন।
নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশের পরও জাতীয় নাগরিক কমিটি একটি পৃথক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে থাকবে। এর কার্যক্রম আগের মতোই রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে পরিচালিত হবে, তবে নতুন দলের জন্য আলাদা কার্যালয় নির্ধারণ করা হবে।
গতকাল নাগরিক কমিটির এক বৈঠকে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
১. আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, মুখপাত্র এবং মুখ্য সংগঠক ছাড়া নাগরিক কমিটির সব নির্বাহী কমিটি, সেল ও সার্চ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। নতুন রাজনৈতিক দলে যোগদানকারীদের নাগরিক কমিটির সদস্যপদ ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে, তবে দলে অন্তর্ভুক্তির পর তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিক কমিটি থেকে বাদ পড়বেন। যারা দলে যাবেন না, তারা আগের মতোই নাগরিক কমিটির সদস্য থাকবেন।
2. ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী ১৫ দিনের জন্য নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, মুখপাত্র ও মুখ্য সংগঠক অনানুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর একটি নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
3. নতুন দল গঠনের পর নাগরিক কমিটি ভবিষ্যতে আর কোনো রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেবে না। এটি একটি ‘সিভিল-পলিটিক্যাল’ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
নতুন রাজনৈতিক দলে বিভিন্ন পদের জন্য ১২০ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যারা নতুন দলে থাকবেন না, তাদের নিয়ে নাগরিক কমিটি পুনর্গঠিত হবে।