জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, শিক্ষার্থীরা তাদের খাতা পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে তার বাসার সামনে অবস্থান নেয়, যা অযৌক্তিক নয়। পুনর্মূল্যায়নের ফলে ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে, যা শিক্ষকদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়নের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। যদি পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে এত শিক্ষার্থী পাস করতে পারে, তবে খাতা দেখার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ আছে।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের হওয়ায় তারা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারে না। তাই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে নীতিমালা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “অনেকে আমাকে মাস্টার্স কোর্স বন্ধ করার পরামর্শ দেন, কিন্তু এটি সহজ কাজ নয়। কোনো সিদ্ধান্ত নিলেই আন্দোলন ও অবরোধ শুরু হয়ে যায়।”
সেমিনারের সঞ্চালক সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভাজন ও বৈষম্য বেড়েছে। ৫৪ বছরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়া আমাদের ব্যর্থতা।
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষাব্যবস্থার কোনো ফ্রেমওয়ার্ক নেই। কওমি মাদ্রাসা ও অনেক ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের রেজিস্ট্রেশন নেই, যা শিক্ষার অনিয়মকে বাড়িয়ে তুলছে।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্য শিক্ষাবিদরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে আলোচনা করেন।